1. news.sondhan24@gmail.com : Masudur Rahman : Masudur Rahman
  2. reporternahidtkg@gmail.com : Nahid Reza : Nahid Reza
  3. jmitsolutionbd@gmail.com : jmmasud : jmmasud Sheikh
মাদারীপুরে করোনায় নষ্ট হল আলাহুদ্দিনের হাজারও অবিক্রিত বাঁশি - Sondhan24
শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০৯:০১ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
সন্ধান২৪ এর পক্ষ থেকে সবাইকে স্বাগতম। করোনা ভাইরাস রোধে নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত পরিস্কার করুন এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। ধন্যবাদ

মাদারীপুরে করোনায় নষ্ট হল আলাহুদ্দিনের হাজারও অবিক্রিত বাঁশি

  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২০, ১১.৪২ এএম
  • ৫৮ জন সংবাদটি পড়েছেন।

স্টাফ রিপোর্টার: বাঁশি বাংলার সংস্কৃতিতে নিজস্ব সুর । বাঁশির সুর আমাদের জীবনে একটি অনন্য স্থান অধিকার করে আছে। আমাদের লোকসঙ্গীতে দুটি যন্ত্রের ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ করা যায়- বাঁশি ও একতারা ।  আধুনিকায়নের যুগে চাহিদা কম থাকলেও হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো কাঁধে ঝোলা আর মুখে আঞ্চলিক গানের অকৃত্রিম সুর বাঁশিতে তুলে অবিরত ৩২ বছর ধরে হাঁটছেন বাশিওয়ালা আলাহুদ্দিন মোল্লা । ক্লান্তিহীন পথিকের বেশে বিভিন্ন জেলার পথে প্রান্তরে বাঁশি বিক্রি করে সংসার চালান ৫০ বছর বয়সী এ বাঁশিওয়ালা । কিন্তু দেশে মহামারী করোনা ভাইরাস দেখা দেওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে তার বাঁশি বিক্রি । তাছাড়া করোনাকালে বৈশাখী মেলায় বিক্রি করতে না পেরে নষ্ট হয় দীর্ঘদিন ঘরে থাকা লক্ষাধিক টাকার সহাস্রাধিক বাঁশি । এতে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার হোসেনপুর এলাকার এ বাঁশিওয়ালা ।

জানা যায়, গত বৈশাখ মাসে মেলায় বিক্রির উদ্দেশ্যে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার কারিগরদের থেকে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার বাঁশি কিনেন আলাহুদ্দিন মোল্লা। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারনে এবছরে বৈশাখী মেলা বন্ধ থাকায় বাঁশিগুলো বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে দীর্ঘদিন ঘরে বস্তাবন্দী থাকায় বাঁশিগুলো ঘুনে ধরা, ফুটো হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে নষ্ট হয়ে যায় । ফলে করোনায় একদিকে কর্মহীন, অন্যদিকে বাঁশিগুলো নষ্ট হওয়ায় আলাহুদ্দিন ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয় ।

হোসেনপুরের কাশেম ফকির জানায়, আলাহুদ্দিন মোল্লা দীর্ঘদিন ধরেই বাঁশি বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন । তিনি গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, ফরিদপুর, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলার মেলা, হাট-বাজার, পথে-ঘাটে বাঁশি বিক্রি করে থাকেন । কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে তার বাঁশি বিক্রি অনেকটাই কমে গেছে । তাছাড়া লক্ষাধিক টাকার বাঁশি নষ্ট হয়ে যাওয়া তার অনেক ক্ষতি হয়েছে।

একই এলাকার গনি সরদার জানায়, আলাহুদ্দিন মোল্লা মধুর সুরে বাঁশি বাজাতে পারেন। তাছাড়া তার নাক দিয়ে বাঁশি বাজানোর অসাধারন প্রতিভা রয়েছে। তার এ প্রতিভা দেখেও অনেকে তার থেকে বাঁশি কিনে। দীর্ঘবছর ধরেই তিনি বাঁশি বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন। তবে করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়া এবং অনেক বাঁশি ঘরে থেকে নষ্ট হওয়ায় তার অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন ।

বাঁশিওয়ালা আলাহুদ্দিন মোল্লা জানান, আমি দীর্ঘ ৩২ বছর ধরেই বাঁশি বিক্রি করে সংসার চালাই। কিন্তু করোনায় আমার বাঁশি বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়াও বৈশাখী মেলায় বিক্রির উদ্দেশ্যে ঋন নিয়ে লক্ষাধিক টাকার বাঁশি কিনেছিলাম, যা ঘুনে ধরে ও ফুটো হয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমার অনেক ক্ষতি হয়েছে। এখন সংসার চালাতে গিয়ে নিত্য দিনের চাহিদা মেটাতে আমাকে বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে । করোনাকালে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ১০ কেজি চাল পেয়েছিলাম। তারপর আর কিছু পাইনি ।

দেশের এই করোনাকালে তার যে ক্ষতি হয়েছে, সরকারি সহযোগিতা পেলে এবং করোনায় পর সবকিছু খুলে দিলে আবার বাঁশি বিক্রি করে ঋন পরিশোধসহ তার ক্ষতি পুশিয়ে নিতে পারতেন বলে জানান এ বাঁশিওয়ালা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2020
Design & Development by : JM IT SOLUTION